আসসালামু আলাইকুম। আজ আমি আমার এই পোস্টে বাংলাদেশের দর্শনীয় জায়গা নিয়ে আলোচনা করবো । 

অনেকেই বলেন বাংলাদেশে কোন সুন্দর জায়গাই নেই, ঘুরার মতো। কিন্তু এটা একটা সম্পূর্ন ভুল ধারনা। বাংলাদেশে এতো অসাধারন সব পর্যটন ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলো না দেখলে বিশ্বাস হবেনা।

এখন আপনাদের দেখাবো এমন কিছু অসাধারন জায়গা। আপনারা অবসরে এগুলো থেকে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন।

কক্সবাজার :

কক্সবাজার :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বসেরা সমুদ্রসৈকত। পাহাড়ঘেরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্রসৈকত। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কক্সবাজার আদর্শ জায়গা। এ ছাড়া এখানে অনেক প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে।  সারি সারি ঝাউবন, বালুর নরম বিছানা, সামনে বিশাল সমুদ্র। ছুটিতে বেড়িয়ে আসার জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের তুলনাই হয় না। রয়েছে নীল জলরাশির গর্জন। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরী, সেন্টমার্টিন কক্সবাজারকে করেছে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়। এখানে গিয়ে বেড়াতে পারেন হিমছড়ি ও ইনানী বিচেও


২.  সেন্টমার্টিন মার্টিন :

সেন্টমার্টিন মার্টিন

সেন্টমার্টিন হলো বিশ্বের অন্যতম প্রবাল দ্বীপ। অপূর্ব সুন্দর জায়গা সেন্টমার্টিন।   সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ যা দেশের মূলভূখণ্ডের সর্ব দক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ১৭ বর্গ কিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। স্থানীয় ভাষায় সেন্টমার্টিনকে নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও ডাকা হয়। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এ দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে।

৩. রাঙামাটি :

বাংলাদেশের দর্শনীয় জায়গা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট এর জেলা শহর আর আশপাশে সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় স্থান। এখানকার জায়গাগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজে। তবে বর্ষার সাজ একেবারেই অন্যরূপ।

৪. খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি

সৃষ্টিকর্তা অপার সৌন্দর্যে সাজিয়েছেন খাগড়াছড়িকে। এখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালি, চেঙ্গি ও মাইনি উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূভাগ ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা। যেদিকেই চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ভ্রমণবিলাসীদের জন্য আদর্শ স্থান। খাগড়াছড়ি পুরোপুরি পাহাড়ি এলাাকা । এখানে আপনি ঝুলন্ত ব্রীজ, আলুটিলা রহস্যময় গুহা, রিছাং ঝরনা এবং পাহাড়ি অদ্ভুত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন ।

৫. দীঘিনালা বিহার

দীঘিনালা উপভোগ বিহার, সাজেক ভেলী যাওয়ার পথে অবস্থিত খুব সুন্দর এবং শান্ত – স্নিগ্ধ একটি জায়গা । এর ভিতরে প্রবেশের পর, আপনি দুটি মন্দির দেখবেন। একটিতে বুদ্ধের একটি বড় মূর্তি আছে এবং অন্যটিতে রাঙ্গামাটি বিহারের ভান্তে নামের এক স্থানীয়র দুটি মূর্তি আছে।


৬. শ্রীমঙ্গল


শ্রীমঙ্গল

বাংলাদেশের যে কয়েকটি অঞ্চলে চা-বাগান পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল অন্যতম।  শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়ে থাকে।সিলেটের চায়ের রং, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। রূপকন্যা হিসেবে সারা দেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং।


৭. বিছানাকান্দি :

সিলেটের পর্যটন স্বর্গ। দেশের সীমান্তঘেরা পাথরের বিছানা ও মেঘালয় পাহাড় থেকে আসা ঠাণ্ডা পানি । পাশেই পাহাড়ি সবুজের সমারোহ। ছোট বড় পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা বিছানাকান্দিতে সৃষ্টি করেছে এক মনোরম পরিবেশ।


৮. সাজেক :

সাজেক

রাঙামাটিতে সাজেক এর অবস্থান হয়ে থাকলেও যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। খাগড়াছড়ি টাউন হতে দীঘিনালা, তারপর বাঘাইহাট হয়ে সাজেক। পুরো রাস্তাটাই অপূর্ব, আশপাশের দৃশ্যও মনোরম। পথের দুই পাশে লাল-সবুজ রঙের বাড়ি ও পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জমে ওঠে মেঘের মেলা । সাজেক ভ্যালি বা সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাই উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটন স্থল। রাঙামাটির একেবারে উত্তরে অবস্থিত এই সাজেক ভ্যালিতে রয়েছে দুটি পাড়া- রুইলুই এবং কংলাক। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়া ১,৭২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।

৯. রঙরাং পাহাড় :

রঙরাং পাহাড়ের চূড়ায় আপনি না উঠতে পারেন তাহলে রাঙামাটির সৌন্দর্য অপূর্ণ থেকে যাবে। পাহাড়ের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে মোহনীয় কর্ণফুলী। কর্ণফুলীর পাশে বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় এর অবস্থান। চারপাশের এমন সব সৌন্দর্য চোখের সামনে চলে আসবে যদি রঙরাং চূড়ায় উঠতে পারেন !

১০ বান্দরবানের বোল্ডিং খিয়াং

বান্দরবানের মংপ্রু পাড়ায় ঝরনাটির অবস্থান। দুই বিশাল পাহাড়কে পাহারায় রেখে পাথুরে জলের ধারা বয়ে দিচ্ছে এই ঝরনা। পাহাড়ের চূড়ায় উঠতেই বদলে যাবে দৃশ্যপট। ঝরনাগুলো পুরো এলাকাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে সাদাটে কুয়াশার চাদরে।

১১. ইদ্রাকপুর দুর্গ :

ইন্দ্রকপুর দুর্গ হলো মুন্সীগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন। মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ হতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই দুর্গটি।

১২. লালবাগ কেল্লা :

মোগল আমলের স্থাপত্যকীর্তি লালবাগের কেল্লা। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে তৈরি এই কেল্লাতে রয়েছে পরীবিবির মাজার, দরবার গৃহ, হাম্মামখানা, মসজিদ, দুর্গ ইত্যাদি। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে লালবাগ কেল্লার অবস্থান।

১৩. নীলগিরি :

নীলগিরি দেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। বান্দরবানের থানচি উপজেলায় এর অবস্থান। মেঘের সঙ্গে মিতালি করে এখানে মেঘ ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরিতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অপরূপ।

১৪. নীলাচল ও শুভ্রনীলা :

বান্দরবানের প্রবেশ মুখেই রয়েছে নীলাচল ও শুভ্রনীলা। এই পর্যটনস্থানগুলোতে সবসময়ই মেঘের খেলা চলে। এ পাহাড়ের ওপর নির্মিত এ দুটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

১৫. চলনবিল 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এটি। বর্ষার সুন্দরী বলা চলে ৩ জেলাজুড়ে বিস্তৃত বিলকে। বর্ষায় কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে।

১৬. আহসান মঞ্জিল :

বুড়িগঙ্গার পাড়ঘেঁষে কুমারটুলী এলাকায় প্রাচীন এই সাম্রাজ্যের অবস্থান। মঞ্জিলটি রংমহল ও অন্দরমহল দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রাসাদটির উপরে অনেক সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া একটি জাদুঘরও রয়েছে এখানে।

১৭. মহাস্থানগড় :

ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পুরাকীর্তিটি বগুড়ায় অবস্থিত। পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল বর্তমান বগুড়া মহাস্থানগড়। মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং সেন আমলেও বগুড়ার বিশেষ প্রশাসনিক গুরুত্ব ছিল। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে এটির অবস্থিত।
রাঙামাটি জেলার সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর মধ্যে শুভলং ঝরনা একটি। এই ঝরনা দেখতে সর্বক্ষণ পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে ঝরনাটি পতিত হয়েছে কাপ্তাই লেকে। শুভলংয়ের কাছে যেতে বাধা নেই।

১৯. সোমপুর মহাবিহার :

সোমপুর মহাবিহার পাহাড়পুর বিহারে অবস্থিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধবিহার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। এটা পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত গন্তব্য। কারণ এটি অনন্য স্থাপত্য। এই স্থান পরিদর্শন করেন বেশির ভাগ ভারতীয়।

২০. লাউয়াছড়া বন :

লাউয়াছড়া বন

ঘন জঙ্গলের বুক চিরে চলে গেছে পাহাড়ি রাস্তা। দুই পাশে সারি সারি গাছ। তার মধ্য দিয়ে মধ্যদুপুর কিংবা সোনাঝরা সকাল অথবা বিকালের নরম আলো লাউয়াছড়াকে করেছে আরও মোহনীয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই বন।

২১. রাজবন বিহার :

রাঙামাটির জেলার বেশ কয়েকটি নিদর্শনের মধ্যে রাজবন বৌদ্ধবিহার একটি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি পবিত্র স্থান। মন্দিরের দৃষ্টিনন্দন গঠনের জন্য সাধারণ পর্যটকের কাছেও এটি আকর্ষণীয় জায়গা।

২২. চিম্বুক পাহাড় :

দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। বান্দরবানের চিম্বুক সারা দেশেই পরিচিত নাম। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ি দৃশ্য ও সাঙ্গু নদীর দৃশ্য খুবই মনোরম। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে দেখা যাবে মেঘের ভেলা।

২৩. স্বর্ণমন্দির :

মহাসুখ মন্দির। সোনালি রঙের জন্য স্বর্ণমন্দির বিখ্যাত। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকার নাতিউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় এর অবস্থান। প্রতি পূর্ণিমার রাতে অপরূপ আলোয় এখানে জ্বলে ওঠে হাজার মাটির প্রদীপ।

 ২৪.কান্তজির মন্দিরঃ

কান্তজির মন্দির বা কান্তজির মন্দির বা কান্তনগর মন্দির বাংলাদেশের দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মন্দির। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত কারণ তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিলো। কান্তজিউ মন্দির ১৮ শতকে নির্মিত একটি চমৎকার ধর্মীয় স্থাপনা। মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের কান্ত বা কৃষ্ণের মন্দির হিসেবে পরিচিত যা লেীকিক রাধা-কৃষ্ণের ধর্মীয় প্রথা হিসেবে বাংলায় প্রচলিত।

২৫. ষাট গম্বুজ মসজিদ :

ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এটি বৃহত্তম মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত হয়। খান জাহান আলি এটি নির্মাণ করেন ।
মসজিদটি সাধারণত নামাজের জন্য ব্যবহার করা হয়।

২৬. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর :

এই জাদুঘর ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ খোলা হয়। জাদুঘর প্রদর্শন ১০,০০০ অধিক হস্তনির্মিত এবং চিত্র প্রদর্শনীতে। এটি বর্তমানে পুনর্নির্মিত হচ্ছে। জাদুঘর কোনো দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা বলে মনে করা হয়। কারণ এটাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংরক্ষণ আছে।

২৭. ছেড়াদ্বীপ :

সর্বত্র ছোট-বড় পাথর আর কিছু কেয়া গাছ। আর এর চারপাশজুড়ে শুধুই নীল পানির ঢেউ। সাগরের মাঝখানে ছোট্ট এক পাথুরে দ্বীপ। এটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিচ্ছিন্ন অংশ ও বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে থাকা বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দু।

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্রসৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্যোদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুণ ব্যাপার।

২৯. কুয়াকাটাঃ

কুয়াকাটাঃ

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা ‘সাগর কন্যা’ হিসেবে পরিচিত। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।

৩১. সুন্দরবন :

সুন্দরবন

সুন্দরবন হলো অন্যতম বাংলাদেশের দর্শনীয় জায়গা। সারা বিশ্বের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। বিশ্বের অনেক পর্যটক ঘুরতে আসেন সুন্দরবনে। অপরূপ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জোয়ার-ভাটা বিচিত্র রূপের এ বনকে দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রতিদিন ভিড় জমান।

৩১. সোনাদিয়া দ্বীপ :

কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে খুব বেশি দূরে নয় সোনাদিয়া দ্বীপ। ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই দ্বীপটি। সাগরের গাঢ় নীল জল, লাল কাঁকড়া, কেয়া বন, সামুদ্রিক পাখি সব মিলিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চিত পরিবেশ।

৩২. তাজহাট জমিদার বাড়ি :

শত বছরের অমলিন কীর্তি এই জমিদার বাড়িটি। রংপুরের হাজহাটে এর অবস্থান। রাস্তার দুই পাশে আকাশসম উচ্চতার নারিকেল গাছ। বাড়িটির সামনে ও পাশে দুটি পুকুর। অনেক দর্শনার্থী এখানে বেড়াতে আসেন।

৩৩. বিরিশিরি :

বিরিশিরি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। এটি এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বিরিশিরির মূল আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি। সাদা মাটি পানির রংকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

৩৪. মনপুরা :

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। রুপালি দ্বীপ মনপুরা। মনপুরা উপজেলা দেশের মানুষের কাছে যেমন আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা তেমনি বিদেশিদের কাছেও।

৩৫. নিঝুমদ্বীপ :

নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশের দক্ষিণে পর্যটন কেন্দ্র নোয়াখালী হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ। শুধু সৌন্দর্য্যেই নয় প্রাকৃতিক সম্পদেও রয়েছে এর বিশাল সম্ভাবনা । বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে জেগে ওঠা দ্বীপটির একদিকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ, অন্যদিকে ছুটে আসা হিমেল হাওয়া আর সবুজের সুবিশাল ক্যানভাস দ্বীপটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক রূপ বৈচিত্র্য যেন চিত্রশিল্পী সুনিপুণভাবে গড়েছেন জল রং তুলিতে । অপার সম্ভাবনার নিঝুমদ্বীপ নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা হাতিয়া । হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কোলে জেগে উঠেছে চিরসবুজের দ্বীপ নিঝুমদ্বীপ। চারদিকে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে পাখিদের সুমধুর গান, থেকে থেকে মাঝিদের কন্ঠে গেয়ে ওঠা গাননন, অজস্র মাছ, আর সোনার হরিণের সম্পদে পরিপূর্ণ ভাণ্ডার এই নিঝুমদ্বীপ ।

৩৬. আমিয়াখুম ঝরনা :

অমিয়াখুমের অপরূপ রূপ পরিগ্রহ করতে আপনাকে যেতে হবে বান্দরবানে । এ রূপ ভোলার নয়, ভ্রমণপিয়াসীরা তাই সময় পেলেই পাড়ি জমায় । বান্দরবান জেলার সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর মধ্যে অমিয়াখুম ঝরনা একটি ।

৩৭.রাতারগুলঃ 

 রাতারগুল সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। এখানে হিজলে ফল ধরে আছে শয়ে শয়ে। বটও চোখে পড়বে মাঝেমধ্যে, মুর্তা গাছ কম। বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। কোনো গাছের হাঁটু পর্যন্ত ডুবে আছে পানিতে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলো আবার শরীরের অর্ধেকই ডুবিয়ে আছে জলে। কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল পেতেছে জেলেরা।

৩৮.  : কুমিল্লাঃ 

কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলায় লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, বার্ডসসহ আরও অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান রয়েছে।

৩৯.কিশোরগঞ্জঃ

কিশোরগঞ্জঃ

কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা উপজেলার প্রায় সবটুকু এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নিকলী হাওর। এ হাওরের সৌন্দর্যে খুঁজে পাওয়া যায় গ্রামীণ পরিবেশের স্বকীয়তা। আর শহুরে জীবনে বেড়ে ওঠা তরুণ বন্ধুদের কাছে জানা-অজানার মধ্যে লুকিয়ে থাকা এমন সব জায়গাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

বিশাল জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রাম। যেন একেকটা ছোট ছোট দ্বীপ। হাওরজুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকা হিজল গাছের সারি বা পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন কিংবা শুশুকের লাফ-ঝাঁপ মুহূর্তেই আপনার মন ভালো করে দেবে। কিশোরগঞ্জ হাওর এমনই।

Previous Post Next Post