পানির অপর নাম জীবন, এটা আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু কি নিয়মে পানি পান করতে হয় তা কি আমরা সকলেই জানি? পানি পান করার কিছু নিয়ম আছে, যখন তখন ইচ্ছে হলেই পানি পান করা যায় না। পানি শুধু আমাদের তৃষ্ণা মেটায় না, একটা শরীরের পানির মাত্রা ঠিক রাখে, খিদে কমায় এবং অতিরিক্ত ক্যালরি কমাতে সাহায্য করে। জেনে রাখুন পানি পানের সঠিক নিয়ম। এতে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হবে। আসুন জেনে নিই পানি পান করার সঠিক নিয়ম কি এবং কিভাবে পানি পান করতে হয়।

পানি পান করার সঠিক নিয়ম

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি খেতে হবে, গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করলে দেহের কর্ম ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়, ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে দেহের ক্ষতিকর টক্সিন উপাদানেরা বেরিয়ে যায়। ফলে রোগ ভোগের আশঙ্কা কমে যায়।

২. গোসলের আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিতে হবে, তাতে রক্ত চলাচলের গতি ঠিক থাকে। দিনের অগ্রভাগে পানি পান ও রাত্র যত বাড়তে থাকবে পানি  পান এর মাত্রা তত কমতে থাকবে, এমনটি বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. খাবার পরপরই পানি পান করা ঠিক না। খাবার খাওয়ার কমপক্ষে 30 থেকে 45 মিনিট পর পানি পান করুন। কারণ খাবার খাওয়ার পর প্রায় আধ ঘন্টা লাগে স্বাভাবিক পাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে। এর মাঝে পানি পান করলে স্বাভাবিক পাচন প্রক্রিয়া বিঘ্ন ঘটে। যার ফলে দেখা দেয় নানা ধরনের হজম জনিত সমস্যা। তাই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পানি পান করুন।

৪. চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে গর গর করে পানি করা নয় চুমুক দিয়ে পানি পান করুন। চুমুক দিয়ে পানি পান করা হল সবচেয়ে ভালো উপায়। আমাদের মুখে প্রচুর পরিমাণে লালা উৎপন্ন করি, লালা ক্ষারীয় একটি উপাদান। পেটের হাইড্রোক্লোরিড এসিড আমাদের মুখের লালা ও এসিড কে স্থির রাখে। গর গর করে পানি পান করলে শুধুমাত্র পানি পান করা হয়, তা আমাদের পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছায় না।

. সব সময় বসে পানি পান করুন, ভুলেও দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না। ধর্মীয় মতে দাঁড়িয়ে পান করা নিষেধ আছে। বিজ্ঞানীদের মতে পানি বিভিন্ন ছাকুনির মাধ্যমে পাকস্থলী তে পৌঁছায়। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে সঠিকভাবে ছাকুনি হতে পারে না। এজন্য পানির মধ্যে ক্ষতিকর কোন পদার্থ থাকলে তা সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। তাই সবসময় বসে পানি পান করুন।

. একসাথে বেশি পানি পান না করে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। অনেকেই আছে পানি পান করার সময় একেবারে অনেক পানি পান করে থাকে, এভাবে শরীরের ভেতর চাপ বেড়ে যায়। এতে শরীরের ক্ষতি হবার আশঙ্কা আছে। তাই অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করুন।

 ৭.পানি অল্প একটু গরম থাকলে তার অন্যরকম তৃপ্তি অনুভূতি আনে। সব সময় হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করুন। বেশি বেশি পানি পান করলে শরীরের ভাইরাস জনিত সমস্যা দূর হয়। পানি খাওয়ার মাত্রা যত বাড়তে থাকবে মূত্রের মাত্রা তত বেড়ে যায় ফলে ক্ষতিকারক জীবাণু শরীরে বাসা বাঁধার সুযোগ পায় না। তাই প্রতিদিন সুস্থ থাকতে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করুন।

Previous Post Next Post