আজকে আমি আমার জিবনের কিছু ভালোবাসার মুহুর্ত শেয়ার করবো...

ভালোবাসার গল্প

সবার জীবনেই কোন না কোনভাবে ভালোবাসার একটা মানুষ চলে আসে, আমিও তার ব্যাতিক্রম নই। আমারো একটা ভালোবাসার মানুষ ছিলো, আমার কাছে এখনো সেই মানুষ টা খুব সখের মানুষ। 

আমি এখন শুরু থেকে আমার সেই সময় গুলোর স্মৃতিচারন করবো-👇

আমি কখনো কারো খুব প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করি নি বা কখনো কারো ভালোবাসার মানুষ হতে পারি নি। এভাবেই বিন্দাস সময় পার করতে থাকলাম,,স্কুল লাইফ, কলেজ লাইফ, সব দন্ডি পেরিয়ে যখন বেকার সময় কাটাচ্ছি, তখন হটাৎ কোন এক মাধ্যমে একটা মেয়ে কে দেখতে পেলাম,মেয়েটা কে দেখেই খুব মায়া কাজ করতো মনের ভিতর,মেয়েটাকে দেখতে পেতাম শুধু মোবাইলে,মানে তার সাথে পরিচয় আমার অনলাইনে। কিছুদিন দেখতে দেখতে মেয়েটার মায়ায় পড়ে গেলাম,তাঁর ফেসবুক,প্রোফাইল চেক করতে থাকাই নেশা ছিলো তখন।

হটাৎ একদিন কোন এক মাধ্যমে তার নজরে যাওয়া জন্য ফেসবুকে তাকে সারপ্রাইজ করলাম।দুই এক দিন পর সেই সারপ্রাইজ থেকে মেয়েটিকে একটা নক করলাম মেসেনজারে, মেয়েটি প্রথম রিপ্লে করেছিলো কিছু বলবেন?

আমি তার সরল জবাব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

আমি বলালাম না কিছু বলবো না, তার পর কথা  আস্তে আস্তে শুরু হচ্ছিল... 

আমি প্রথমেই প্রকাশ করেছিলাম আমার কোন মেয়ের সাথে কথা হয় না,আপনার সাথে কথা বললে কোন সমস্যা হবে কি?

সেই মেয়েটি আগ্রহ নিয়ে বলেছিলো আপনি আমার অনেক সিনিয়র আপনার সাথে কি কথা বলবো আমি। তারপর আমাদের পরিচয় হয়, মেয়েটা ইন্টার ১ম বর্ষে ছিলো তখন।

খুব বেশি নক করতাম না প্রথমে,আস্তে আস্তে টুকটাক ভালো মন্দ কথা হতে থাকলো। মেয়েটি আমার মতোই প্রেমহীন ছিলো,আমার আবেগ প্রবণ কথাগুলো খুব সহজেই তার মনে জায়গা করে নিতো। মেসেনজারে কথা হতো, দুজন সুযোগ পেলেই গল্প করতাম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।কথা বলার সময় আমরা কেউ কারো ফেসবুকে এড ছিলাম না। একদিন মেয়েটার একটা ছবি দিতে বলেছিলাম, কোন কিছু না ভেবেই মেয়েটা একটা ছবি পাঠিয়ে দেয়।আমি ছবিটা দেখে প্রথম কমেন্ট করেছিলাম ওরে সুন্দরী। আমি তখন মনের মাঝে তার ছবি ধারন করি, মনের ভিতর তখন চরম লেভেলের অনূভুতি কাজ করতো।মেয়েটা কথা বলার সাথে সাথে অনেক গুলো ছবি দেয় আমাকে।আমি তার প্রেমে পড়ে যাই,আমি তার মায়ায় আঁটকে যাই।একদিন মেয়েটা আমার একটা ছবি দিতে বললো,আমি একটু সংকোচ বোধ করেছিলাম,ভাবলাম আমাকে পছন্দ করবে কি? তারপর সব ভাবনা রেখে ওর কথায় একটা ছবি দিলাম।তারপর নির্দ্বিধায় কথা হতে থাকলো। মেয়েটার যখন সময় সুযোগ হতো তখনি কথা হতো। 

একদিন মেয়েটা ফোনে একটু কথা বলার জন্য আমাকে বললো,আমি তো খুবি এক্সসাইটেড,মেয়েটা বলল যখন কোচিং করতে বের হবে তখন আমার সাথে ফোনে কথা বলবে।আমি অধির আগ্রহ নিয়ে বাসা থেকে একটু দূরে চলে গেলাম,তার সাথে কথা বলার জন্য। মেয়েটা কল করলো,আমি তার ফোন কেটে ফোন ব্রেক করলাম,সেই প্রথম কারো সাথে ফোনে কথা, সেই মূহুতগুলো প্রকাশ করার মতো নয়। এতো বেশি মনের ভিতর ভালোলাগা কাজ করলো,মেয়েটার গলার সূর আমার মনে গেধে গিয়েছিলো,মেয়েটি একটা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আমার সাথে ৩৫ মিনিট কথা বলেছিলো। 

আহা... কি যে ফিলিংস কাজ করেছিলো তখন।

তারপর একটা সময় মেয়ের সাথে ফেসবুকে এড হওয়ার কথা বললাম,মেয়েটি আমাকে রিকুয়েষ্ট পাঠালো,আমি সঙ্গে সঙ্গে রিকুয়েষ্ট গ্রহন করি।

তারপর থেকে মেয়েটির ফেসবুক আইডির কোথায় কি আছে সব দেখতে লাগলাম। প্রতিদিন প্রায় ১০০ বারের বেশি তার পোষ্ট, তার ভিডিও গুলো দেখতাম,তার আইডিতে ২ টা ভিডিও পোস্ট করা ছিলো,ভিডিও অন করে তার ছবির মাঝে ভিডিও টা আঁটকে রেখে মেয়েটাকে দেখতাম।এমন একটা ফিলিংস বা ভালোলাগা ছিলো তখন,তা প্রকাশ করা যাবে না কখনোই। প্রতিদিন তার ছবি দেখা আর আইডি সার্চ করা,মেসেজের জন্য অপেক্ষা করা এগুলো আমাকে ভালোবাসায় বেঁধে ফেলে।

মনে মনে মেয়েটিকে অনেক বেশি পছন্দ করতাম,কিন্তু প্রকাশ করতাম না।কথা হতে থাকলো,আস্তে আস্তে আমি আমার সব কথা তার সাথে শেয়ার করতে থাকলাম,আমার জীবনের যত অতীত ছিলো আমি তার সাথে এক এক করে সব শেয়ার করেছিলাম।মেয়েটার জীবনেও আমি ছিলাম প্রথম মানুষ, যার সাথে সে এতো কথা বলছে বা এতো সময় দিচ্ছে।

মেয়েটা আগ্রহের সাথে আমার সব অতীতের গল্প শুনলো।আমার ভালোলাগার ব্যাপারগুলো তার সাথে শেয়ার করেছিলাম সেদিন।আমি যেমন তাকে পছন্দ করতাম মনে মনে,সেও আমার প্রতি অনেকটা দুর্বল ছিলো,আমার প্রতি আগ্রহ ছিলো। আমি তার আগ্রহ বুঝতে পেরে তাঁর জীবন সম্পর্কে জানতে চাইলাম,প্রশ্ন করলাম আপনার কোন পছন্দের মানুষ আছে কি? সহজ সরল ভাবে বললো আমি কোন দিন প্রেম ভালোবাসায় জড়াবো না কারো সাথে,সময় হলে সরাসরি বিয়ে করে নিবো। এমন কথা শুনে আমি অবাক হলাম। তারপর আমি বললাম আপনার সাথে মাঝে মধ্যে কথা বললে কি কোন সমস্যা হবে? উওরে বললো-- না,,না,,কোন সমস্যা হবে না। আমি বললাম আপনি আমাকে বন্ধুর মতো মনে করতে পারেন,মেয়েটি বললো আপনি কত সিনিয়র একজন মানুষ। আমি বললাম তা নিয়ে সমস্যা নেই। এভাবে আস্তে আস্তে অনেক কথা হতে থাকলো আমাদের মাঝে,দুজনের পরিচয়,বাসার মানুষের পরিচয়,সব একে একে পরিচয় হয়ে গেলো।

মেয়েটার ঠিকানা ছিলো অনেক দূর, উওর বঙ্গে।

ভালোলাগার ব্যাপারগুলো এতো দূরের বিষয় টা সহজ করে দিয়েছিলো।

কথা বলতে বলতে একটা সময় আমি মেয়েটির প্রেমে পড়ে যাই। মেয়েটি আমার প্রতি অনেক দূর্বল ছিলো,জানিনা কেন আমার প্রতি তার মোহ হয়েছিলো....

একটা সময় কথা বাড়তে থাকে, অনেক বেশি কথা হয়। ইশারা ইঙ্গিতে কথা হয়,কিন্তু কোন ভালোবাসার কথা হয় না।

প্রতিদিন তার অনেক স্টাইলের ছবি,আমার ফোনের গ্যালারী ভরে গিয়েছিলো তার ছবিতে।দু'জন দু'জনের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ি,কিন্তু কেউ কাউকে কোন কিছু বলি না।তখন বলার কোন পরিস্থিতি ছিলো না,কারন মেয়েটি কখনো কারো সাথে সম্পর্কে জড়াবে না। আমি মনে মনে খুব ভালোবেসে ফেললাম তখন,কিন্তু প্রকাশ করতে পারছিলাম না।মেয়েটাকে অনেক ভাবে বুঝিয়েছি তাকে আমার খুব পছন্দ।যে কোন কারনেই হোক মেয়েটার আমার প্রতি আগ্রহ ছিলো,একদিন আমি বললাম আমি একজনকে খুব ভালোলাগে,কিন্তু কোনদিন থাকে সেই কথা বলা যাবে না,কোনদিন তার সাথে আমার ভালোবাসা হবে না। সে বললো আপনি মেয়েটিকে বলে দেখুন?আপনি যদি না বলেন তাইলে তো বুঝতে পারবেন না।সাহস করে বলতে হবে ভালোবাসার কথা।

আমি তো বিপাকে পড়ে গেলাম, আমি যে তাকেই পছন্দ করি মেয়েটি সে কথা ঠিকি টের পাচ্ছিলো।আমি বললাম মেয়েটিকে আমি কোনদিন ভালোবাসি কথা টা বলতে পারবো না।সে খুব জোড় জবরদস্তি করতে থাকলো,মেয়েটিকে বলে দিতে,আমি নিরুপায় হয়ে বললাম, তোমাকে আমার খুব বেশি ভালোলাগে😊

আমি প্রকাশ করে দিলাম সব কিছু,মেয়েটা তার কথা বলতে থাকলো,,কোনদিন তার পক্ষে ভালোবাসায় জড়ানো সম্ভব হবে না।আমি যেন তার মায়ায় না জড়িয়ে যাই।আমার কোন কিছু তখন বলার ছিলো না,আমি নিরব থাকলাম।

খুব কষ্ট লাগছিলো তখন, আমি তাঁকে সময় দিয়েছিলাম একটু ভেবে দেখার জন্য, মেয়েটা ২ মাস সময় নিয়েছিলো। ১৬ জুলাই ২০২২ মেয়েটি আমাকে বলেছিলো -Apnar kichu kothar uttor ami hoyto kunodin dite parbo na🙂 আমি নোট করে রেখেছিলাম এই কথাটা।

তারপর নামহীন সম্পর্ক চলতে থাকলো আমাদের মাঝে, মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হয়,সব ভাবেই কথা চলতে থাকে। তার মাঝে ভিডিও কলেও কথা হয়। এভাবে চলতে চলতে মাস পেরিয়ে গেলো, কেউ কাউকে ভালোবাসার দাবীর কথা বলি না। সময় যখন হলো,আমি জানতে চাইলাম তোমার কি ভাবনা আমাদের বিষয়ে? মেয়েটি সম্মতির লক্ষ্মণ বুঝতে পাচ্ছিলাম তখন। তখন কথা বলার বয়স ৩ মাস হয়ে গেছিলো। তার সাথে ভালেবাসার গল্প হতো, বিভিন্ন রখম খুনসুটি হতো।এভাবে একটা সময় আমাদের প্রেমের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলো। আমাদের অনুভূতি গুলো নিয়ে তখন অনেক কথা হতো, গভীর রাত পর্যন্ত চ্যাটে কথা হতো থাকলো। আস্তে আস্তে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে যেতে থাকলাম।আমাদের শুধু অনলাইনে পরিচয়,বাস্তবে আমরা কেউ কাউকে দেখি নি,দুজন দুজন কে দেখার জন্য অধীর আগ্রহ তৈরি হলো।সম্পকের ৬ মাস সময় হয়ে যাচ্ছে অতছো দেখা হয় নি, একসাথে বসে গল্প করা হয় নি, এই বিষয় টার জন্য মন খুব বিষন্ন থাকতো,কবে আমাদের দেখা হবে, কবে দুজন দুজনের খুব কাছাকাছি থাকবো। তারপর অনেক প্রতিক্ষার পর তার সাথে দেখা করতে যাবো মন স্থির করলাম, নিদিষ্ট একটা ডেইটে তার কাছে যাবো,সে কলেজ ফাঁকি দিয়ে আমার সাথে দেখা করতে আসবে। আমি প্রথম কোন মেয়ের এতটা কাছে যাবো, ভাবতেই ঘা সুরসুর করতো। আমি তার জন্য কিছু কিনতে মার্কেটে গেলাম, এক জোড়া চুড়ি আর একটা ব্রেসলেট কিনেছিলাম। আর তার পছন্দের কিছু চকলেট।

সারারাত জার্নি করে যেতে হবে, অনেক দূরের পথ।আমি সন্ধ্যা সময় রওনা হলাম, বাস স্ট্যান্ড থেকে শ্যামলী বাসের টিকেট কিনলাম গন্তব্য যাওয়ার জন্য। মনের মাঝে খুব ভয় ভয় কাজ করছিলো,কাউকে না বলে এতদূর যাচ্ছি,যদি কোন বিপদ হয়,এমন ভাবনা মনে কাজ করছিলো। যেতে থাকলাম আর তার সাথে কথা বলতে থাকলাম,কি করবো,কোথায় ঘুরবো,কোথায় থাকবো সব কিছু নিয়ে কথা বললাম। সকাল ৬ টায় পৌছালাম। একটা হোটেলে উঠলাম, ফ্রেশ হলাম,একটু পর প্রিয় মানুষের সাথে দেখা করবো,এই অনূভুতি কখনো লিখে প্রকাশ করা যাবে না। তার বকুলের ফুল খুব পছন্দের ছিলো,তার বলে দেয়া সেই মর্ডাণ মোড় থেকে একটা বকুলের মালা আর ২ টা গোলাপ কিনলাম। এখন দেখা করার সময় হয়ে যাচ্ছে,একটা অটো করে তার বলে দেয়া জায়গায় অপেক্ষা করতে থাকলাম,আর ফোনে কথা বলতে থাকলাম,এখনি তাকে সামনে থেকে দেখতে পাবো।আহা.... কি যে খুশি লাগছিলো।

তখনি সে অটো করে আমার সামনে আসলো,আমি তার পাশে বসলাম🥺 কোন কথায় বলতে পাচ্ছিলাম না তখন। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর তাঁর হাত টা ধরেছি। ২০ মিনিট রাস্তায় অটো দিয়ে গেলাম। তারপর চলে গেলাম একটা উদ্যানে । একসাথে সেই হাঁটা, তারপর বসে গল্প করা,তাকে জড়িয়ে ধরা,,তার স্পর্শ নেয়া সবি হলো। দুপুরের পর আবার দেখা হবে সে আমার জন্য নিজ হাতে কেক বানিয়ে নিয়ে আসলো, একটা রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খেলাম দুজন। সব শেষ করে আবার হোটেলে চলে আসলাম। বিকেলে তার বাসার পাশে গেলাম,আমাকে দেখে সে বের হলো,তার পিছু পিছু হাঁটলাম, তাকে দেখলাম, ভালোই খুনশুটি হলো। তার আশপাশ টা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। হটাৎ দিন খারাপ করলো,শুরু হলো বৃষ্টি, আমি মিতালি সংঘ একটা ক্লাবে দাঁড়ালাম, তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ টা সারাজীবন মনে দাগ লেগে থাকবে।বৃষ্টি একটু কমতেই চলে আসলাম হোটেলে, পরদিন আবার দেখা হবে দুজনের। সারারাত তার কথা ভাবলাম,খুব মিস করছিলাম সবকিছু।

পরদিন সকাল বেলা আবার তার সাথে দেখা, আবারো সেই উদ্যানে চলে গেলাম।দুজন দুজনকে খুব গভীরভাবে দেখলাম।তার সাথে এতোটা কাছে আসার অনূভুতিতে আমি সেদিন তাঁকে জড়িয়ে কান্না করে দিয়েছিলাম,আমার অজরে কান্না আসছিলো।মনে হচ্ছিল আমার খুব আপন মানুষকে আমি কাছে পেয়েছি। 

দুপুর হয়ে গেলো, এখন চলে আসতে হবে দুজন আবার অটো করে চলে আসলাম। একটু রেষ্ট করে আবার বের হবো,তখন তার কলেজ টাইম।

একটু ফ্রেশ হয়ে সে কলেজে আসলো আমিও তার কলেজে গেলাম,২ জন একসাথে খাবো বলে খাবার নিয়ে গেলাম,আমি সেদিন প্রথম কাউকে মুখে তুলে খাবার দিয়েছি। নিজ হাতে তার মুখে তুলে খাবার খাওয়াতে পেরে খুব তৃপ্তি পাচ্ছিলাম। ভালোবাসার এই অনূভুতি গুলো জীবনের সবচেয়ে দামী সময় হিসাবে থাকবে আমার লাইফে।

সময় শেষ প্রায় এখন তার বাসায় চলে যাওয়ার সময়, তখনি তার বাসা থেকে ফোন আসলো তাকে নিয়ে যেতে তার বাবা আসলো কলেজে, আমাকে বিদায় দিয়ে সে মোটরসাইকেলে উঠে চলে গেলো। তখন যে একটা কষ্ট অনুভব হয়েছিলো, মনে হচ্ছিলো দেহের ভিতরে কি যেন একটা ছিঁড়ে গেলো। আমার কাছ থেকে চলে যাওয়াটা আমার খুব কষ্ট লাগছিলো,আর দেখতে পারবো না তার মুখ এই ভেবে।

তারপর আমি হোটেল চলে আসলাম সব কিছু গুছিয়ে নিলাম রাতের গাড়িতেই চলে আসবো বাসায়। তার দেয়া কিছু দামী উপহার আমি গুছিয়ে নিলাম।

সারারাত তার ছবি দেখতে দেখতে,কান্না করতে করতে চলে আসলাম।

ভালোবাসাটা বেড়ে গেলো,দেখা হলো কথা হলো,সব শখ পূরণ হলো। তার কথা ভাবতে ভাবতেই দিন কেটে যায়।তার সাথে তুলা ছবি গুলো সারা বেলা দেখি।যখনি মিস করি তখনি ছবি গুলো দেখে কল্পনা করি এইতো সেই ভালোবাসা। তখন পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ছিলো।

মাঝে মধ্যে আমাদের দূরে থাকার কারনে অনেক ভুল বুঝাবুঝি হতো,তারপর কিছুক্ষণ পর আবার সব ঠিক হয়ে যেতো।

এভাবে আরো ২ মাস কেটে যায়, মাঝে মধ্যে তার কাছে চিঠি লিখে পাঠাতাম। সেও আমাকে চিঠি লিখতো। সব কথা লিখে প্রকাশ করা যাচ্ছে না অনেক অনূভুতি লিখতে পাচ্ছি না।

অনেক কিছু বাদ পরে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে অনেক খারাপ লেভেলের সমস্যা হতো আমাদের।

আমি তার মনের সব ভাব বুঝতে পারতাম না,তার ভালো লাগার কাজ গুলো তার মনের মতো প্রকাশ করতে পারতাম না। তা নিয়ে খুব কষ্ট হতো দুজনের মাঝেই।আমি কখনো তার কাছে রোমান্টিক প্রেমিক হতে পারতাম না।তার চাওয়া পাওয়া গুলো আমি পূরন করতে পারতাম না। আস্তে আস্তে বিষয় গুলো বড় আকার ধারন করতে লাগলো।এসব সমস্যা সাময়িক হলেও ১ দিনেই আবার ঠিক হয়ে যেতো সব কিছু। এভাবে চলতে থাকলো আমাদের প্রেমের সম্পর্ক। তারপর আবার দেখা করার জন্য আমরা একটা দিন ঠিক করলাম, এবার সময় সুযোগ কম, দিনে দেখা করে রাতেই চলে আসবো। আবার রওনা হলাম রাতের বাসে উঠলাম সকাল সকাল পৌঁছালাম। বরাবরের মতোই সেই হোটেলে উঠলাম। মর্ডান মোড় থেকে তার জন্য গোলাপ কিনলাম। সকাল বেলা দেখা করতে তার প্রাইভেটের কাছে গেলাম।তার সাথে দেখা হলো, আবার তার পাশে বসলাম, হাতে হাত রাখলাম। পার্কে গেলাম,উদ্যানে গেলাম।

খুব কাজ থেকে তাকে মনের মতো ভালো বাসলাম। আমার তাকে মুখে তুলে খাবার দিলাম। তার দেয়া আবার কিছু উপহার পেলাম। 

চলে আসার সময় হয়ে যাচ্ছে,তার বাসায় চলে যেতে হবে।আমি রাতের গাড়িতে আবার চলে আসবো। এই হলো আমাদের পরিচয় থেকে ৩ দিনের দেখা হওয়া পর্যন্ত গল্প। সে আমাকে খুব ভালোবাসতো, সব সময় আমার ভালো হোক সেই কামনা করতো।আমাকে সবদিক থেকে সবসময় সাপোর্ট করতো। অনেক কথা হতো আমাদের,তার মাঝে অনেক ভুল বুঝাবুঝিও হতো। একটা সময় সব কিছু প্রকাশ হতে লাগলো। ভালোবাসার শুরু থেকে সব খারাপ লাগা, কষ্টের বিষয় গুলো আমাদের মাঝে চলে আসলো। যে মানুষটাকে আমি আমার মতো করে ভালোবেসেছি, সে একটা সময় তা গ্রহন করতে পাচ্ছিলো না😊 আমাকে ভালোবাসা নাকি তার জীবনের ভুল ছিলো,আমি সেই মানুষ কখনো হতে চাই নি,যার জীবনে আমি ভুল মানুষ হয়ে থাকবো। আমার কথায়, আমাকে ব্যবহারে তার খুব কষ্ট হতো।আমাকে মন থেকে মেনে নিতে পাচ্ছিলো না কোনভাবেই। আমার দেয়া ভালোবাসা তার মনে জায়গা করে দিতে পারেনি আমি তখন বুঝতে পাচ্ছিলাম।আস্তে আস্তে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। মাঝেমধ্যে সব ঠিক রাখার চেষ্টা করলেও বুকে চাপানো কষ্টের ভিতর কোনোকিছুই ঠিক থাকে নি। আমার প্রতি অনেক অভিযোগ সৃষ্টি হলো,আমার প্রতি তার খারাপ মনোভাব সৃষ্টি হলো। মানুষ আসলে সুখে থাকার জন্য অনেক কিছুই করে এই পৃথিবীতে। সব সুখ আসলে সবার জন্য থাকে না। আমি তার জীবনের একটা ভুল মানুষ ছিলাম।সে আমাকে ভুল করে ভালোবেসেছিলো। আমি তার যোগ্য হতে পারিনি,আমার ভালোবাসা তার মন ছুঁয়ে দিতে পারে নি। একটা সময় সে আর কোন যোগাযোগ রাখতে যাচ্ছে না,আমি বহুবার বহুভাবে তাকে আকরে ধরে রাখতে চেয়েছি।একটা সময় সে আমার থেকে মুক্তি চায়..

আমাকে ভুলে যেতে চায়,সব অতীত মুছে দিয়ে,নতুন করে ভালোবাসা পেতে চায়।

আমার সাথে আর কোন ভালোবাসা জড়াতে চায় না একটা সময়।

Ami r kono somporke jorate chai na😅

আমি তাকে আমার ভালোবাসা দিয়ে ধরে রাখতে পারি নি,,আসলে ভুল মানুষ কে ভালোবাসলে একটা সময় এই পরিস্থিতি সবারি ফেইস করতে হবে।আমি তার জীবনের ভুল মানুষ হিসেবে ছিলাম। আমার সব ভালোবাসায় তার কাছে মূলহীন এখন। প্রিয় মানুষের কাছে থেকে ঘৃনার মানুষ না হয়ে আমি এখন নির্বাক। 

আমি তাকে আমার নিজের থেকে বেশি ভালোবাসি,আমি থাকে গোপনে সারাজীবন ভালোবেসে যাবো।সারাজীবন এক সাথে থাকার কথা ছিলো, আমি আজ খুব অসহায়, খুব একা।

আসলে মানুষ হারিয়ে যাওয়ার আগে বদলে যায়। 
টেনেটুনে কখানোই সম্পর্ক হয় না
সেটা বন্ধুত্ব হোক কিংবা ভালোবাসা। 
সম্পর্কের মাঝে টান থাকতে হয়।
যার কাছে আপনার গুরুত্ব নাই,
ভালোবাসা নাই সে আর যাই হোক,
মানুষটা আপনার না।

আমি চাই না, আমার জন্য আমার মানুষটার জীবনে কোন কষ্ট হোক। সে ছেড়ে গেলেও আমি তাকে ভালেবাসি, সে ভালো না বাসলেও তাকে যে আমি বড্ড ভালোবাসি।💗

মুখস্ত হয়ে যাওয়া তোমাকে ভোলা এত সহজ নয়।
তোমাকে পেয়ে যাবে এই আশা নিয়েই পুরু জীবন কাটুক।💗

[S+F]

Previous Post Next Post